দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকিয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজলের পক্ষের কয়েকজন যুবক গাড়িটি আটকিয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ নিয়ে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজলের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে বর মো. হানিফ, তাঁর বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত ৪৬ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরযাত্রীর গাড়ি আটকিয়ে টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ কাজল বলেন, তাঁরা জামাই নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে এক অটোরিকশার চালকের সঙ্গে জামাই পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। তখন তাঁর লোকজন তাদের ঝগড়া না করার জন্য বলেন। এ নিয়ে একপর্যায়ে বরপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাঁদের লোকজনের মারামারি হয়। এতে তাঁদের পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের হেলাল বলেন, তাঁরা জামাইয়ের গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে কাজলের ভাই-ভাতিজারা গাড়ি আটকিয়ে মিষ্টির টাকা চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝগড়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে তাঁদের পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/