দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি চাকরি পেতে টাকা দিতে হয় এমন অভিযোগ ও ধারণা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে কম নয়। সেই বাস্তবতার মধ্যেই বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০তম গ্রেডের ৫৭টি পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রার্থীরা। তাদের দাবি, আবেদন ফি বাবদ ৬০ টাকা ছাড়া চাকরি পেতে তাঁদের আর কোনো অর্থ দিতে হয়নি। কোনো তদবিরও করতে হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কথা হয় কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁদের প্রায় সবার বক্তব্য একই নিয়োগের জন্য কাউকে টাকা দিতে হয়নি।
নিয়োগ পাওয়া জুলহাস হোসেন, হাসি আক্তার ও মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, এর আগে তাঁরা একাধিকবার বিভিন্ন চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত ভাইভা দিয়েও চাকরি পাননি। এবার কোনো ধরনের তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তাঁরা খুশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এর অধীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়গুলো এবং বরিশাল সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ অক্টোবর, শেষ হয় ২৯ নভেম্বর। পরে বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে ৮২টি পদের মধ্যে ৫৭টির নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন সময়ের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অতীতে নানা আলোচনা ও অভিযোগ ছিল। কিছু নিয়োগপ্রক্রিয়া জটিলতার কারণে শেষ না হওয়ার কথাও জানা যায়।
তবে এবারের নিয়োগ নিয়ে অবশ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং সদ্য নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরাই বলছেন, টাকা ছাড়াই তাঁরা চাকরি পেয়েছেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন তালুকদার বলেন, কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াই যে চাকরি পাওয়া যায়, সদ্য নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরাই তার বড় প্রমাণ। যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরাই জানেন কীভাবে তাঁদের নিয়োগ হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করেননি। বরিশালে যোগ দেওয়ার পর বিভাগে শতাধিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে, তাহলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।
বিভাগীয় কমিশনারের দাবি, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সদ্য নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে তাঁরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা করেন।
কেএম