দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে আছিয়া বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের স্বজনদের ধারণা, চিকিৎসার জন্য রাখা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে আছিয়া বেগম নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য তিনি জেলা শহর সুনামগঞ্জে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে স্বজনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাননি।
সোমবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে জগন্নাথপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় খাটের ওপর কম্বল গায়ে অর্ধগলিত অবস্থায় আছিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মেয়ে কল্পনা বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে মায়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বারবার মোবাইলে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মা বাড়িতে একাই থাকতেন।’
নিহতের জামাতা দিলশাদ মিয়া বলেন, ‘আমার শাশুড়ির সঙ্গে কারও কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তবে চিকিৎসার জন্য তার কাছে নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। আমাদের ধারণা, ওই টাকার লোভেই তাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মরদেহের বেশিরভাগ অংশে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘরটির একমাত্র প্রবেশপথটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। দ্রুতই ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
কেএম