দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে অনেকটা নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও নানা জল্পনা তৈরি হয়। কেউ কেউ তাকে মৃত বা গুরুতর অসুস্থ বলেও ধারণা করেন। তবে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে ওই তরুণী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি মদ পান করেছিলেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়ায় মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণী এসব কথা বলেন।
মদপান করেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো (বাইকের) আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আপাতত তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন।
পরে মদ্যপ অবস্থায় তিনি ওই দুই তরুণের সঙ্গে যান বলে জানান ডিসি। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে পুলিশ খুঁজছে। তারা হয়তো ভয়ে সামনে আসছেন না। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ওই তরুণী জানান, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। একপর্যায়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান এবং পরে একটি বারে গিয়ে মদ পান করেন।
তার ভাষ্য, ‘ফ্যামিলিতে যে দণ্ডগুলো হয়, এগুলো আমি নিতে পারিনি। এই মেন্টাল টর্চারের কারণে আমি বাসা থেকে বের হয়ে গেছিলাম, হয়তো আজকে আমি মারা যাব, নয়তো একটা কিছু করব। জিদে আমি বারে চলে গিয়েছিলাম।’
তিনি জানান, বারে যাওয়ার পর অতিরিক্ত মদ পান করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ফোন করে তাকে এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দিতে বলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই তরুণী বলেন, মোটরসাইকেলে ওঠার সময় পর্যন্ত তার কিছুটা জ্ঞান ছিল। এরপর মাঝপথে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
কেএম