দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কৌশলে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে একটি চক্র। এই চক্রের খপ্পরে পড়ে ছয় মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়েছে এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা বাদী হয়ে গত ২৬ আগস্ট ৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। একইসাথে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে, মামলার পরপরই কেন্দুয়া পৌরশহরের সাউদপাড়া গ্রামের মৃত ছনু মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আবু মিয়া (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাউদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ভূইয়া বকুল (৫৫) পলাতক রয়েছেন।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন রফিকুল ইসলাম ভূইয়া বকুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম, মেয়ে মোসা. লিমা এবং টেংগুরী গ্রামের জনির স্ত্রী মোসা. স্মৃতি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থীকে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের আত্মীয় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূইয়া বকুল একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। মেয়েটি তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ভূইয়া বকুলের সহযোগী এক নারী ওই শিক্ষার্থীকে একটি বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে আরো কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য, গত ১ আগস্ট মেয়েটি চট্টগ্রামে বড় ভাইয়ের বাসায় গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি পুরো বিষয়টি জানায়। গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরীক্ষায় মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট বাড়িতে ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জেনে মামলা করে।
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূইয়া বকুলকে বিএনপির দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, যার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তাকে দলে রাখার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির দায়ভার দল নেবে না।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সজল সরকার বলেন, মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত আসামি মো. আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া পৌরশহরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে নানা প্রলোভনে ও কৌশলে জিম্মি করে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে শক্তিশালী একটি চক্র। শুধু দেহ ব্যবসাই নয়, এসব মেয়েকে দিয়ে মাদক ব্যবসাও করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, এই চক্রের মূলহোতাসহ জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
কেএম