দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার শ্রীপুরে সিআইডি সদস্য পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ওই নারীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুল হোসেনের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে তাকে অপহরণ করতে এসেছিলেন আটক ব্যক্তিরা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল, একটি নোহা মাইক্রোবাস ও আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাতে ওয়াপদা বাজার এলাকায় নৈশকালীন দায়িত্ব পালনের সময় নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা জানতে পারেন, নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি নোহা মাইক্রোবাস সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে পুলিশ ওই গাড়িটির ওপর নজরদারি শুরু করে।
পরে রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে নাকোল ক্যাম্পের এসআই মো. আবদুল মালেকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের আটক করা হয়। এতে ওই নারীকে অপহরণের কথিত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাখানা এলাকার আসমা খাতুন (৩১), পাবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান হাছান (২৮), পাগলাখানা এলাকার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান সাহ (২৫), কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ছাব্বির হোসেন (২২), ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আড়মুখ এলাকার সাকিব (২৩) এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার দেবিলা এলাকার আল আমিন হোসেন (২২)।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ওই নারীর আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পরে তিনি শিমুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে তার সঙ্গে সংসার করছিলেন। কিছুদিন আগে প্রথম স্বামী তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর শিমুল হোসেন ওই নারীকে অপহরণের জন্য সাতজনকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া করেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আটক ব্যক্তিরা ঝিনাইদহ থেকে নোহা মাইক্রোবাস নিয়ে এসে ওই নারীর বাড়ির আশপাশে অবস্থান করছিলেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ নজরদারি শুরু করে এবং পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে শিমুল হোসেনের নাম সামনে এসেছে। তবে তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় আটক সাতজনসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অপহরণের চেষ্টা ও সংঘবদ্ধভাবে অপরাধের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যে আই