দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর কোনো নোটিশ ছাড়াই ভেঙে ফেলার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবের সীমানা নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের গাড়ি আটকে বিক্ষোভও করেন সাংবাদিকরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সদস্যসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
জেলা প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে শরীয়তপুর পৌরসভার আমিনবাগ এলাকার তুলাসার মৌজায় প্রেসক্লাবের জন্য ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুভাষ চন্দ্র রায়। জায়গাটি ডোবা থাকায় তৎকালীন সাংবাদিকরা নিজস্ব অর্থায়নে মাটি ভরাট করে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন। পরে ২০২৩ সালে প্রেসক্লাবের জন্য একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।
প্রেসক্লাব সূত্রের দাবি, শনিবার রাতে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই নির্ধারিত জায়গার তিনটি সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলে জেলা প্রশাসন। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
তবে জেলা প্রশাসকের দাবি, প্রেসক্লাবের জায়গাটিতে শিশু পার্ক থাকায় প্রেসক্লাবটি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য জমি বরাদ্দের কাজ চলছে। শিশু পার্কের সুবিধার্থে প্রেসক্লাবের সভাপতির মৌখিক অনুমতি নিয়ে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সীমানাপ্রাচীর ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইস্রাফিল বেপারী।
এরপর রোববার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন প্রেসক্লাবের জায়গা পরিদর্শনে গেলে তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ইস্রাফিলের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে ইট ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে আহত হন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক নুরুল আমিন রবিন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি শরিফুল আলম ইমন ও সদস্য ইসহাক মাদবর।
পরে আহত সাংবাদিকদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আকরাম এলাহী বলেন, ইস্রাফিলের ডান হাতের কব্জির কাছে ভেঙে গেছে। তাঁর বাম পা, কপালের ডান পাশ ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। আরও তিনজন সাংবাদিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইস্রাফিল বেপারী বলেন, প্রেসক্লাবের জমি রক্ষায় সেখানে গেলে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর এক হাত ভেঙে গেছে দাবি করে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
আহত সাংবাদিক শরিফুল আলম ইমন বলেন, সকালে প্রেসক্লাবের জায়গা পরিদর্শনে গেলে আট থেকে ১০ জন লোক হঠাৎ ইস্রাফিলের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁরাও আহত হন। তাঁর একটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে সমালোচনা করায় তাঁর ছেলে পলাশ ও তাঁর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সাংবাদিক ইস্রাফিলের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না দাবি করে বলেন, ঘটনার জন্য তিনি নিজেও বিব্রত। তাঁর সন্তানকে বিচারের মুখোমুখি করতে তিনি উদ্যোগ নেবেন।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের বিক্ষোভের একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ভিপি সম্পত্তিতে স্থাপনা তৈরি করা যায় না। প্রেসক্লাবের জায়গার বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প জমি বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া চলছে।
সীমানাপ্রাচীর ভাঙার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। প্রেসক্লাবের সভাপতির মৌখিক কথার ভিত্তিতে প্রাচীরটি অপসারণ করা হয়েছে। তবে প্রেসক্লাবের ভবন অপসারণ করা হয়নি। শিশু পার্কের সুবিধার্থে পেছনের দেয়াল ভাঙা হয়েছে।
লিখিত নোটিশ ছাড়া এভাবে প্রাচীর ভাঙা যায় কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, মৌখিকভাবে এটি করা যায় না। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ স্থাপনা নির্মাণের কাগজপত্র দিলে তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, জেলা প্রশাসক আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে ফেলা দেয়াল পুনরায় নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। তা না হলে প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি প্রেসক্লাবকে অবগত না করে সভাপতি কীভাবে মৌখিকভাবে সীমানাপ্রাচীর অপসারণের অনুমতি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহকর্মী ইস্রাফিল বেপারীর ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর পরিবার থানায় অভিযোগ করবে। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) তানভীর হোসেন বলেন, প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তবে সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ পাশে থাকবে।
এমএস/