দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুরে দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়াই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি আয়রন ব্রিজের বীমসহ লোহার মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকনের বিরুদ্ধে। কোনো বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা না করে ব্রিজের অংশবিশেষ খুলে ফেলায় প্রায় চার গ্রামের কয়েকশ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এদবর খালের ওপর থাকা পুরোনো আয়রন ব্রিজের বীমসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন মামুন আকন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্রিজ দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে আসছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন ব্রিজটি ব্যবহার করতেন। ব্রিজটির কিছু অংশের স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও এটিই ছিল এলাকার মানুষের পারাপারের অন্যতম মাধ্যম।
তাদের অভিযোগ, মানুষের চলাচলের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্রিজের বীম ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেন। পরে এলজিইডি কার্যালয়ের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের মালামালের তালিকা তৈরি করেন। উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় গ্রাম পুলিশ হেমায়েতের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন আকন বলেন, সেতুর মালামাল তুলেছি পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য। সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুল হায়দার নিপু ও ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের অনুমতি নিয়ে খাল থেকে আয়রন ব্রিজের বীম ও মালামাল তুলেছি।
মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্রিজের মালামাল সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন আকন বলেন, আমি এলাকায় সামাজিক কাজ করি, তাই।
তবে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু বলেন, আমি কাউকে ওই ব্রিজের বীমসহ মালামাল তুলে নেওয়ার অনুমতি দিইনি। ব্রিজের মালামাল অন্যত্র নিতে হলে পরিষদে রেজুলেশন করতে হবে। মানুষের চলাচলের জন্য নতুন ব্রিজ কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা করে তারপর মালামাল নিতে হবে। তাও ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি করবে। এখানে মামুন আকনের কোনো অধিকার নেই মালামাল খুলে নেওয়ার।
৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন দেবনাথ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এসব কাজ দল সমর্থন করে না। এটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস এম জিয়াউল হক বলেন, মালামাল ওঠানোর আগে আমাদের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে লোক পাঠিয়ে সিজার লিস্ট করা হয়েছে। পরে মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে এনে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। জেনে দেখি। ঘটনা সত্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত তদন্ত করে ব্রিজটি পুনঃস্থাপন অথবা বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এমএস/