দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারসংলগ্ন ফটকি নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। ১৬ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির এক পাশের সংযোগ সড়ক এখনো নির্মাণ না হওয়ায় এটি কোনো কাজে আসছে না। অন্যদিকে পাশের পুরোনো সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন দুই উপজেলার মানুষ ও যানবাহন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মূল অবকাঠামো এবং উত্তর পাশের মাগুরা অংশের সংযোগ সড়কের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। তবে দক্ষিণ পাশের আড়পাড়া বাজার অংশে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ থমকে আছে। ফলে নতুন সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জেলা ও দূরপাল্লার হাজারো যানবাহন চলাচল করছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ফটকি নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু ও মাগুরা সদর অংশের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। কিন্তু শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজার অংশের জমি এখনো অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেতুর দক্ষিণ পাশে ২৩৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।
এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মাগুরা-যশোর এবং ঢাকা-খুলনাগামী অসংখ্য দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করে। নতুন সেতু চালু না হওয়ায় পুরোনো সেতু দিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সেতুর দক্ষিণ পাশে আড়পাড়া বাজারের মুদিদোকানদার অলোক রায় বলেন, আমার ২ শতাংশ জমি সেতুর সংযোগ সড়কের মধ্যে পড়ছে। সেতু নির্মাণের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে ন্যায্যমূল্য পেলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।
মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতুর মূল অংশের নির্মাণকাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। তবে স্থানীয় প্রশাসন আড়পাড়া অংশের জমি অধিগ্রহণ করে বুঝিয়ে না দেওয়ায় সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ করা সম্ভব হয়নি।
মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, সেতুর মূল অবকাঠামো ও মাগুরা অংশের সংযোগ সড়ক ইতিমধ্যে প্রস্তুত। আড়পাড়া অংশের জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এমএস/