দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) মারা গেছেন।
প্রায় ২০ দিন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল ও সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় একদল মানুষ মামলার প্রধান আসামিসহ হামলায় জড়িতদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত নিহতের মরদেহ ঢাকায় থাকায় নিজ গ্রামে নেওয়া হয়নি। মরদেহের অপেক্ষায় আদিতমারীর দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামে স্বজন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।
এর জেরে গত ১ আগস্ট বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ বাড়ির কাছেই তার ওপর হামলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরিফুলের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ২ আগস্ট আদিতমারী থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার প্রধান আসামি রহিদুল ইসলাম ঘটনার পর আত্মগোপনে ছিলেন। ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার নয়াতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩। পরে তাকে আদিতমারী থানায় হস্তান্তর করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিক্ষক আরিফুলের মৃত্যুর পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন রহিদুলসহ মামলার অন্য আসামিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
যে আই