দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর ধামইরহাটে বিয়ের কথা বলে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে আমবাগানে নিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেরিনাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও তার সহযোগীরা। মরদেহের পরিচয় গোপন করতে পেট্রোল ঢেলে শরীরের ঊর্ধ্বাংশ ও মুখমণ্ডল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার অন্য আসামি হলেন তারেক রহমান (২১)। তিনি ধামইরহাট এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাট থানার একটি আমবাগানে পোড়া মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। একই সময়ে মেরিনা বেগমের ছেলে তার মায়ের নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে আসেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের পাশে পড়ে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রসাধনসামগ্রী দেখে পরিবারের সদস্যরা মেরিনাকে শনাক্ত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বাবুল হোসেনকে সন্দেহ করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মেরিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল হোসেনের দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে পরিচয় ও পরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে মেরিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তখন বাবুল তাকে ১৬ আগস্ট বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পুলিশের দাবি, বিয়ের কথা বিশ্বাস করে মেরিনা ১৬ আগস্ট প্রসাধনসামগ্রী, পোশাক ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে বাবুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে শাহাপুর ইউনিয়ন থেকে নিয়ে অগ্রাদিগুণ বাজারে নেওয়া হয়। রাতের দিকে সেখান থেকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে মনিহারি-তালপুকুর সড়কের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ দুজন মেরিনার গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। এতে তার মৃত্যু হলে মরদেহের ওপর খড়কুটো জড়ো করে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও আরও দুজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে নওগাঁর মান্দায় ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ১৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনুর রশিদের মৃত্যু হয়। এর আগে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় ইসমাইল তাকে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইসমাইল জানিয়েছেন, তার ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ তার স্ত্রীর দিকে কুনজরে তাকাতেন বলে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাকে কোপ দেওয়ার সময় হাতে আঘাত করার উদ্দেশ্য থাকলেও সেটি মাথায় লাগে বলে ইসমাইল দাবি করেছেন। পরে মহাদেবপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এমএম/