দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সমাবেশের কয়েকঘন্টার মধ্যে থানার ওসি মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়। বিকেলে ছাত্রদলের একটি সমাবেশের কয়েকঘণ্টা পরই এ ঘটনা ঘটে।
সমাবেশ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সেই থানা থেকে ভিডিও বার্তা ছড়িয়েছে। তবে পুলিশ এঘটনা অস্বীকার করেছে।
সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরের নিউ মার্কেট চত্বরে ওসির অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পিসহ নেতাকর্মীদের ওপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালালেও সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
ওসির এমন নির্লিপ্ততা ও তোষণনীতির কারণেই জেলায় ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ অপতৎপরতা চালানোর দুঃসাহস পেয়েছে। মানববন্ধনে ছাত্রদল নেতারা অবিলম্বে ওসির স্থায়ী অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ছাত্রদলের এই রাজপথের আন্দোলনের মধ্যেই সদর থানা হাজতের ভেতর থেকে গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভিডিও বার্তার বিষয়টি সামনে আসে। গত ১৫ আগস্ট শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভন গ্রেপ্তার হন।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওসি’র ভূমিকার কারণে সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পিসহ নেতাকর্মীদের ওপর চিহ্নিত ব্যক্তিরা হামলার সাহস পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড বাড়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে ওসির স্থায়ী অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এসব ঘটনায় সদর থানার ওসির পক্ষ থেকে সব সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এপিপি বলেন, সম্প্রতি কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থানা হাজতের ভেতরে তাদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় শুধু ওসিকে বদলি করাই যথেষ্ট নয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে ভিডিও ধারণের ঘটনা সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার। তিনি বলেন, ভিডিও ধারণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আর ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি নিয়মিত বদলির অংশ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা সদর থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
কেএম