দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সংসদ সদস্য মওলানা তাজউদ্দীনের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের নতুন ভবনের প্যাথলজি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্যকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। তবে সংসদ সদস্য নিজেই জানিয়েছেন, তার ওপর হামলা হয়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মওলানা তাজউদ্দীন জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বুধবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। প্রথমে তারা চিকিৎসক বেলাল হোসেনের কক্ষে গিয়ে তাকে পাননি। তবে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর দেখতে পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
এরপর তারা হাসপাতালের নতুন ভবনের প্যাথলজি বিভাগে যান। সেখানে হাসপাতালের পরিচয়পত্র ছাড়া এক ব্যক্তিকে দেখতে পান তারা। পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি স্বাক্ষরবিহীন একটি পরিচয়পত্র দেখান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পরিচয়পত্রটি দেখানো হলে সেটিকে ভুয়া বলে জানানো হয়।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জামায়াতের এক কর্মী ওই ব্যক্তিকে কয়েকটি চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, এ সময় সংসদ সদস্যকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সংসদ সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে যান। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের বাইরে থেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান এবং সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নিরাপদে সেখান থেকে বের করে দেন।
জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হুছাইন বলেন, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। পরে উভয় দলের নেতারা বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, সেখানে কোনো ‘মব’ সৃষ্টি হয়নি। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজনকে মারধর করায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার বিষয়ে জামায়াতের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিএনপির এই নেতাও।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালের সব কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
সংসদ সদস্য মওলানা তাজউদ্দীন বলেন, হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালের উৎপাত দেখতে পান। প্যাথলজি বিভাগেও রোগীদের হয়রানি করা হচ্ছে। ভুয়া স্টাফ সেজে অনেকে রোগীদের সঙ্গে ঝামেলা করছেন। এসব নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর ওপর কোনো হামলা হয়নি।
যে আই