দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের ফটক ভেঙে পালিয়ে যাওয়া ৮৭ বন্দীর মধ্যে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর মঙ্গলবার রাতে শ্যামনগরের পৃথক দুটি অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এখনো ৩৯ বন্দী পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামের মোজাম গাজী (৪৯) ও আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেকি গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজী (৩৮)।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, কারাগার থেকে পালানোর পর দুজনই নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য পলাতকদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন জানান, পালিয়ে যাওয়া ৮৭ বন্দীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৪৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ফিরেছেন। বর্তমানে ৩৯ জন পলাতক। তাঁদের নামের তালিকা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে।
পলাতকদের তালিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সাতক্ষীরা সদরের সাহেব আলী ও ভাড়ুখালীর শাহাদাৎ হোসেন রয়েছেন। এ ছাড়া হত্যা মামলার আসামি তালার আসমা বেগম ও আমিরুল ইসলাম, কলারোয়ার আবদুল আলিম এবং শ্যামনগরের শফিকুল ইসলামও রয়েছেন। অন্যরা মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, মারপিটসহ বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন।
পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, মোজাম গাজী চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ছয় লাখ টাকা জরিমানা পেয়েছিলেন। কারাগার থেকে পালানোর পর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি হয়। একই ধরনের মামলায় রফিকুল ইসলাম গাজীর ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে ৫৯৬ জন বন্দী ছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যায় হামলা ও ভাঙচুরের সময় প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন বন্দিশালার দরজা ভেঙে দিলে বিপুলসংখ্যক বন্দী বেরিয়ে যান। পরে অনেকে সেদিন রাতেই এবং পরদিন কারাগারে ফিরে আসেন। তবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ফিরে না আসা ৮৭ জনের বিরুদ্ধে কারাগার ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করা হয়।
পলাতক বন্দীদের দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না হওয়াকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখছেন না মানবাধিকারকর্মীরা। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দিন বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিরা দীর্ঘদিন বাইরে থাকায় নতুন করে অপরাধ বা অশান্তি তৈরির আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, ৩৯ পলাতকের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁরা কোথায় অবস্থান করছেন এবং কারও সহযোগিতায় আত্মগোপনে আছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনের হাত থেকে পলাতক বন্দীদের পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
এমএস/