দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক। আগুনে নিহতদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সৌদি পুলিশের তদন্ত, ডেথ সার্টিফিকেট ও আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার কাজও চলছে। ফলে মরদেহ দেশে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময় এখনও জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
তবে দ্রুততম সময়ে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রোববার দুপুরে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ এলাকায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য।
নিহত ১৩ জনের মধ্যে চারজনই আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের। তারা হলেন- মহন প্রামাণিক (২২), তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), রুবেল প্রামাণিক (৩০) ও কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫)।
এ ছাড়া সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮) নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতদের অনেকেই পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। কেউ পরিবারকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন দেখছিলেন, কেউ সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ পাঠাচ্ছিলেন। মুহূর্তের ভয়াবহ আগুনে সেই স্বপ্নের পাশাপাশি নিভে গেছে ১৩টি পরিবারের প্রিয়জনের জীবন।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের অনেকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র পুড়ে গেছে। এ কারণে মরদেহ শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে সৌদি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট ও প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে আসতে কিছু দিন সময় লাগতে পারে। সৌদি দূতাবাস ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই সরকারি খরচে মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনা হবে। এরপর বিমানবন্দর থেকে নিহতদের মরদেহ নওগাঁয় নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনি ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর খুব শিগগিরই মরদেহ দেশে পাঠানোর সময়সূচি জানানো হবে।
কেএম