দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিনের পরিবারের পাঁচ সদস্যের নামে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর বোনের নামে বিধবা ভাতা এবং ছেলে ও ভাতিজার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা রয়েছে। তাঁদের ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপি সদস্যের বোন সাবরিনা আক্তার পিংকির নামে বিধবা ভাতার এমআইএস নম্বর রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিধবা নন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু লোকমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে ইউপি সদস্য মুনির উদ্দিনের দাবি, তাঁর বোনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা হয়েছিল।
সাবরিনা আক্তার পিংকি চট্টগ্রাম সদর রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্বামীও একটি পরিবহন সংস্থায় চাকরি করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ইউপি সদস্যের ছেলে মোহাম্মদ আবরার বিন মুনিরের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার এমআইএস নম্বর রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রতিবন্ধী নন এবং রায়পুর ইউনিয়নের একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করছেন।
ইউপি সদস্যের বড় ভাই মো. আলম উদ্দিনের ছেলে হাসান বিন আলম সাজিদের নামও প্রতিবন্ধী ভাতার এমআইএস নম্বরে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনিও প্রতিবন্ধী নন। তিনি রায়পুর এজাহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং ২০২৭ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইউপি সদস্যের বাবা মো. শামসুল আলমের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা তাহেরা বেগমের নামে বয়স্ক ভাতার এমআইএস নম্বর রয়েছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, তাঁর বোন সেলিনা আক্তার জন্মগত বাকপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে তাঁর নাম ভাতাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
সেলিম উদ্দিনের অভিযোগ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভাতার তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে ইউপি সদস্যের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিন বলেন, ‘আমার বোনের ডিভোর্স হয়েছে। তৎকালীন এসিল্যান্ড ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে পরিষদে আলোচনা করেই তাকে বিধবা ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তাঁর ছেলে ও ভাতিজা প্রতিবন্ধী না হয়েও কীভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের প্রতিবন্ধী কার্ড আছে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করেই তাদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।’
একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে বিভিন্ন ভাতার আওতায় আনার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এতে কোনো সমস্যা থাকলে তারা ভাতার আওতায় আসতে পারে।’
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। ওয়ার্ড কমিটির সুপারিশের পর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সরকারি ডাটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের পরিবারের পাঁচজন সদস্যের নাম বিভিন্ন ভাতার তালিকায় রয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রিজোয়ান উদ্দীন বলেন, ‘কেউ আগে ডিভোর্স হলেও পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিয়ে করলে বিধবা ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। এ ক্ষেত্রে বিধবা ভাতা বাতিল হয়ে যায়। তার ছেলে ও ভাতিজার প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দেখব। অভিযোগের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতাভোগীদের তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রত্যেকের যোগ্যতা, প্রতিবন্ধী সনদ, বৈবাহিক অবস্থা এবং ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এমএম/