দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইলিশের ভরা মৌসুমে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে তীব্র বরফ সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৫০ টাকার বরফের ক্যান ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এরপরও পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় শত শত মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না।
রোববার (৯ আগস্ট) আলীপুর ও মহিপুর বন্দর এলাকার বরফকলগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ বরফকল বন্ধ থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো চার-পাঁচ দিন ধরে বরফের অপেক্ষায় ঘাটে নোঙর করে আছে। এতে জেলেদের পাশাপাশি ট্রলার মালিকরাও লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।
আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দরে অন্তত ৩৬টি বরফকল রয়েছে। কোনো কোনো কল প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ক্যান, আবার কোনো কোনো কল সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত বরফ উৎপাদন করে। তবে গত ১০ দিন ধরে টানা লোডশেডিংয়ের কারণে এসব কলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বরফের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
চার দিন ধরে বরফের অপেক্ষায় থাকা এফবি নিশাত ট্রলারের জেলে শুক্কুর বলেন, ‘মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য আমাদের ২০০ থেকে ২২০ ক্যান বরফ দরকার। কিন্তু এক ক্যান বরফও পাচ্ছি না। বরফ না পেলে সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করতে পারব না। বরফই আমাদের মাছের প্রাণ। তাই আমাদের জীবিকা এখন বন্ধের পথে।’
ঘাটে একই অবস্থায় রয়েছে এফবি তামান্না, এফবি মা মনি, এফবি কামালসহ শত শত ট্রলার। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত দামে বরফ আনছেন।
খান ফিসের আড়তদার রহিম খান বলেন, ‘১৫০ টাকার বরফ কিনতে হচ্ছে ৩০০ টাকা দিয়ে, তাও পাওয়া যাচ্ছে না। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও নামমাত্র বরফ পাচ্ছি। আলীপুর-মহিপুরে ভয়াবহ সংকট। তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক ভাড়া করে বরফ আনতে হচ্ছে।’
আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বেশি দামে বরফ বিক্রি হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে বরফকলগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরফকল মালিকদের দাবি, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। স্বাভাবিকের তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার সঙ্গে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে বরফের দামও বেড়েছে।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মো. মজনু বলেন, বরফ উৎপাদনের জন্য টানা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিং থাকায় নিয়মিত বরফ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। মৎস্য বন্দর ও কুয়াকাটার জন্য আলাদাভাবে বিদ্যুৎ বরাদ্দ না রাখলে এ ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে লোডশেডিং চলছে। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট কেটে গেলে এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু হলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধান হবে।
এমএম/