দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর, গলায় জুতার মালা পরানো এবং চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মনির হোসেন মোল্যাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর রাতেই আফসানা সরদার ও আমির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ফারুক ব্যাপারী পরিবার নিয়ে সখিপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তিন মাস আগে তারা ছৈয়ালকান্দি এলাকায় ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে ভাড়া ওঠেন।
পরিবারের অভিযোগ, পাশের একটি মুদি দোকানের মালিক মনির হোসেন মোল্যা ওই তরুণীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। মঙ্গলবার সকালে ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী তার ১২ বছর বয়সী বোন ও ৮ বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে দোকানে গেলে মনির তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন। তরুণী বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানাবেন বলে প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তিন ভাইবোনকে পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যানটিনে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁদের ভাড়া বাসার মালিকের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তরুণী ও তার ছোট বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তরুণীকে গাছের সঙ্গে বাঁধছেন। পরে কয়েকজন নারী তাঁকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয় এবং মাথার কিছু চুল কেটে দেওয়া হয়।
পুলিশ গিয়ে তরুণী ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে বলে জানিয়েছেন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, মনির তাঁকে খারাপ প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনি রাজি না হওয়ায় চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ও তার ভাই-বোনকে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে জোর করে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং গলায় জুতার মালা পরানো ও চুল কেটে দেওয়া হয়।
তার মা ফাতেমা বেগম বলেন, মনির মোল্যার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার মেয়ের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের স্বজনদের হুমকির কারণে তারা এলাকা ছেড়ে অন্য একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মনির হোসেন মোল্যা বলেন, তিনি তরুণীকে নির্যাতন করেননি। বাড়ির মালিকের নির্দেশে শুধু তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, বাড়ির মালিকের বাড়িতেই তরুণীকে নির্যাতন করা হয়েছে।
ফৌজিয়া সরদারের স্বামীও প্রথমে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, তার স্ত্রী ও অন্যরা কাজটি ঠিক করেননি এবং দোকানদারের কথায় তারা ওই কাজ করেছেন।
সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণী ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে। অভিযোগের কিছু ত্রুটি সংশোধনের পর শুক্রবার রাতে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
যে আই