দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের চা নিলাম বাজারে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে চা বিক্রির রেকর্ড করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)।
গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত নিলামে প্রতিষ্ঠানটির ১২টি চা বাগানের ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি গড়ে ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা দরে। এতে এনটিসির মোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।
সরকার নির্ধারিত কেজিপ্রতি ২৪৫ টাকা ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে এবারের গড় বিক্রয়মূল্য ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি। এনটিসির দাবি, এক নিলামে বিপুল পরিমাণ চা এত বেশি গড় দামে বিক্রির ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এবারই প্রথম।
নিলামের বিশেষ দিক ছিল, এনটিসির আওতাধীন ১২টি বাগানের প্রতিটির চা কেজিপ্রতি গড়ে ২৮০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। একই নিলামে সব বাগানের চা এত বেশি গড় দামে বিক্রির নজির আগে দেখা যায়নি।
এদিকে চা বিক্রিতে রেকর্ডের পাশাপাশি উৎপাদনেও অগ্রগতি হয়েছে এনটিসির। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও চায়ের গুণগত মানোন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
উন্নতমানের চা উৎপাদনে বাগানগুলোতে কাঁচা পাতা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এনটিসি বলছে, নিবিড় তদারকি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে উৎপাদিত চায়ের রং, সুগন্ধ, স্বাদ ও ঘনত্বে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে নিলাম বাজারেও। চায়ের মান ও চাহিদা বাড়ায় ক্রেতাদের আগ্রহের পাশাপাশি বিক্রয়মূল্যও বেড়েছে।
চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনটিসির এ অর্জন শুধু প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, দেশের চা শিল্পের জন্যও ইতিবাচক বার্তা। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করা গেলে নিলাম বাজারে বাংলাদেশের চায়ের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে এনটিসির কোম্পানি সচিব এ কে আজাদ চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চা উৎপাদন, গুণগত উৎকর্ষ বজায় রাখা এবং দেশের চা শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
দেশের চা শিল্পের অগ্রযাত্রায় ভোক্তা, ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
যে আই