দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালের বাকেরগঞ্জে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, নাশকতা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বরিশালের পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিস্ফোরণস্থল বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনায় জামাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেছেন। মামলার পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, মামলায় যেহেতু আসামিরা অজ্ঞাত, তাই বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, কেউ কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে কি না, উগ্রবাদী কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, এমনকি আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে কোনো যোগসূত্র আছে কি না সব বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যন্ত জেলে অধ্যুষিত একটি গ্রামে কেন এমন বিস্ফোরণ ঘটল, সেটিও তদন্তের অংশ।
বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ছিল হাতে তৈরি একটি বোমা, যা পটকার বারুদ ও পেট্রোল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। এতে স্প্লিন্টার ব্যবহার করা হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত। বোমা তৈরিতে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের এ বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে প্রশাসন।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ছয়টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।
যে আই