দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের জিয়ানগরে পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাট থেকে টেনে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারের দাবি, এ বিরোধের জেরে এক যুগ আগে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছিল, যার কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী শহিদুল হাওলাদার ও তার স্ত্রী মঞ্জু বেগম গত ৩০ জুলাই সকালে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। পরিবারের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন তাদের ঘরে ঢুকে শহিদুল হাওলাদারকে খাট থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করেন। হামলায় আহত হন তার স্ত্রীও। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় মঞ্জু বেগম ইন্দুরকানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান।
মঞ্জু বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তাদের গালিগালাজ করে, তার প্রতিবন্ধী স্বামীকে খাট থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া ঘরের বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রতিবন্ধী শহিদুল হাওলাদার বলেন, তাদের কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং তারা হামলার শিকার হয়েছেন।
পরিবারটির দাবি, ১ একর ২১ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ২০১২ সালে। তাদের অভিযোগ, সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির দখল নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি।
পরিবারের সদস্য হাফিজুর রহমানের দাবি, ২০১৩ সালে বিরোধের জেরে শহিদুল হাওলাদারের ছেলে সোলাইমান হাওলাদার ও তার ভাই আব্দুর রহিম হাওলাদারকে একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়।
সোলাইমান হাওলাদার বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়। এতে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি আর স্কুলে ফিরতে পারেননি। মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জমিটি তাদের পূর্বপুরুষের নামে সিএস রেকর্ডভুক্ত এবং তারা কোনো দখল বা হামলার সঙ্গে জড়িত নন।
এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, উভয় পক্ষের পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে অধিকাংশই দেওয়ানি প্রকৃতির হলেও কিছু বিষয় ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। সেসব বিষয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/