দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অসুস্থ বাবার ওষুধ কেনা আর পরিবারের মুখে আহার তুলে দিতে মাত্র কয়েক বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরেছেন অটোরিকশাচালক হৃদয় শেখ। নিজের শরীরেও দানা বেঁধেছে মরণব্যাধি কিডনি রোগ, অথচ পরিবারের মুখে দু'মুঠো ভাত তুলে দিতে প্রতিদিন তাকেই নামতে হচ্ছে রাজপথে। হৃদয় শেখের এই জীবন সংগ্রামের করুণ গল্প দেশ টিভিতে প্রচারের পর অবশেষে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌদুয়ার গ্রামে হৃদয় শেখের বাড়িতে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ পৌঁছে দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস। তিনি হৃদয় ও তার অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলার চৌদুয়ার গ্রামের সুজাব আলী (৪০) ও আমিনা বেগম দম্পতির বড় ছেলে হৃদয় শেখ। বাবা সুজাব আলী গত ছয় বছর ধরে কিডনিজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোন সুরভী ও চার বছরের ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব এসে পড়ে হৃদয়ের কাঁধে। নিজের কিডনি সমস্যা উপেক্ষা করেই অটোরিকশা চালিয়ে পুরো সংসারের খরচ ও বাবার চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সহায়তা হস্তান্তরের সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস বলেন, "দেশ টিভিতে প্রচার হওয়া সংবাদটি দেখার পরপরই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হৃদয় ও তার বাবার চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এমন মানবিক উদ্যোগের খবর প্রচার করায় দেশ টিভির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে অসহায় পরিবারটি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, হৃদয়ের পরিবার দেড় শতাংশ জমির ওপর ছোট্ট একটি ভাঙ্গা টিনের ঘরে থাকে। পাশেই খড় রাখার আরেকটি জরাজীর্ণ ঘর। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালা দিয়ে পানি পরে। সরকারের পক্ষ থেকে থাকার ঘর দিলে পরিবারটির উপকার হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথান, উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
কেএম