দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর মনোহরদীতে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে সাশ্রয় হওয়া ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহানের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কর্মসূচির আওতায় মহিষাখালী ও গঙ্গাজলী খালের পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে মহিষাখালী খালের ১ দশমিক ৬২০ কিলোমিটার এবং গঙ্গাজলী খালের ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ৩ দশমিক ৭২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে প্রাক্কলনের তুলনায় কম ব্যয় হওয়ায় ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সাশ্রয় হয়। পরে সরকারি বিধি অনুসরণ করে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিবিড় নজরদারি করা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে কাজের পরিমাপ নিশ্চিত করায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, ভুয়া শ্রমিকের বিল এবং আর্থিক অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
এ ছাড়া খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খননকৃত মাটি স্থানীয় সড়ক সংস্কারে ব্যবহার করা হয়েছে এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণও করা হয়েছে।
মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ অপচয় বা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সেখানে কাজ শেষ করে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী। এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, ‘মনোহরদীর ঐতিহ্যবাহী মহিষাখালী ও গঙ্গাজলী খাল দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। সরকারের উদ্যোগে খাল দুটি পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শুরুর আগে ও পরে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে পরিমাপ নিশ্চিত করা হয় এবং পুরো প্রকল্পে নিবিড় তদারকি করা হয়েছে। ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাড়াই কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাশ্রয়ের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
এমএম/