দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে আলাদা দুটি ডেঙ্গু কর্নার চালু রয়েছে। সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অতিরিক্ত ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গুর বড় ঢেউ এখনো শুরু হয়নি। সামনের দিনগুলোতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।
হাসপালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে গত দুই সপ্তাহেই ভর্তি হয়েছে প্রায় শতাধিক। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী। একই সময়ে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৩ জনকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে মোট ২০টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এখনো রোগীদের ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
সরেজমিনে হাসপাতালের একটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ১০টি শয্যার মধ্যে ১০টিতেই রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিটি বেডে মশারি টাঙানো।
পুরুষ ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স বলেন, আমাদের এই ওয়ার্ডে ১০টি বেড আছে। বর্তমানে ১০ জন রোগী ভর্তি আছেন। তিনি জানান, অনেক সময় বেড সংকটের কারণে ফ্লোরে চিকিৎসা দিতে হয়। কিন্তু ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বর্তমানে দুইটি ডেঙ্গু কর্নার চালু আছে। প্রয়োজন হলে আরও বাড়ানো হবে।’
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীই ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। এটি কোনো গুরুতর বা প্রাণঘাতী অবস্থা নয়। এটি এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি সাধারণ রূপ, যা সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়।
সামনের দিনগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহবুব হাসান বলেন, ‘এখনো ডেঙ্গুর ঢেউ আসলে শুরু হয়নি। সামনে একটা বড় ধাক্কা আসবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের সরঞ্জামের সংকট নেই। প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে।’
কেএম