দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর মাধবদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ মাছ ধরার জাল জব্দের সরকারি দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। জব্দ করা জালের বিপরীতে আগুনে পোড়ানো হয়েছে মাত্র কয়েক লাখ টাকার জাল—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া জব্দ করা জালের পরিমাণ ও মূল্য নিয়ে দুই সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে। একই সঙ্গে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্যে কিছু জাল ‘মিসিং’ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
সোমবার সকালে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাধবদী পৌর প্রশাসক আসমা জাহান সরকারের নেতৃত্বে মাধবদী বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে ইউএনও সাংবাদিকদের জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন জাল ব্যবসায়ীকে মৎস্য আইন অনুযায়ী মোট ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে ওই দিন দুপুরে মদনগঞ্জ সড়কের পাশে জব্দ করা জাল পোড়ানোর পর তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে যে পরিমাণ জাল পোড়ানো হয়েছে, তার মূল্য সর্বোচ্চ এক থেকে দুই লাখ টাকার বেশি নয়। ঘোষিত বিপুল পরিমাণ জালের সঙ্গে পোড়ানো জালের দৃশ্যমান মিল নেই বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, ইউএনও প্রায় দুই কোটি টাকার জাল জব্দের কথা বললেও আগুনে পোড়ানো হয়েছে কয়েকটি ভ্যানে আনা অল্প কিছু পুরোনো জাল। তাহলে বাকি জাল কোথায় গেল—এ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় সরকারি বক্তব্যেও অসঙ্গতি দেখা গেছে। ইউএনও আসমা জাহান সরকার জব্দ করা জালের মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে দাবি করলেও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান জানান, জব্দ করা জালের মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ব্যবধান নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, অভিযানে ৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। প্রতি মিটার ৩০ টাকা হিসেবে যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া ৪৮০টি রিং জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা।
সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান বলেন, ৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৪৮০টি রিং জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা। জব্দ করা সব জালই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং মৎস্য বিভাগের হেফাজতে কোনো জাল নেই। তবে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে কিছু জাল ‘মিসিং’ হয়েছে বলে তার ধারণা।
অন্যদিকে ইউএনও আসমা জাহান সরকার বলেন, জব্দ করা সব জালই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। সংরক্ষণে কোনো জাল নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জালের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে অবগত নন। মৎস্য বিভাগের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।
এমএস/