দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভরা মৌসুম চললেও পিরোজপুরের নদ-নদী ও বাজারে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ মিলছে না। ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে নামলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে।
পিরোজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং মাঝারি ও বড় ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দামও তুলনামূলক বেশি। রূপচাঁদা প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা, তপস্বী ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, পোয়া ৬০০ টাকা এবং টুনা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের মাছের মধ্যে রুই ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাগরে অবৈধ ট্রলিং জাহাজের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ আহরণ এবং মাছের রেণু নষ্ট হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে পোনা ও ছোট মাছ নিধনের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিস্তারও ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব বাজারে মাছের সরবরাহেও পড়ছে বলে তাদের দাবি।
পিরোজপুরের কাউখালী বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হেলাল বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও বাজারে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প যে পরিমাণ ইলিশ আসে, তা বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বিক্রয়মূল্যও বেড়ে যায়।
পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আগে বর্ষাকালে দেশীয় মাছের সরবরাহ অনেক বেশি থাকলেও এখন তা কমে গেছে। অবৈধ জাল ও ট্রলিংয়ের কারণে মাছের রেণু নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ক্রেতা রনি আলী বলেন, বর্তমান দামে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে ইলিশ কেনা প্রায় অসম্ভব। সরবরাহ কম থাকায় দুই হাজার টাকার নিচে ভালো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
পিরোজপুর জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি কমল দাসও অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলিং জাহাজে মাছ ধরার ফলে মাছের রেণু-পোনা নষ্ট হচ্ছে। এতে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না।
তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত। তিনি বলেন, ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়তে তারা সাগর থেকে নদীতে আসে। বর্তমানে নদ-নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীতে ইলিশের প্রবেশে বাধা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে নদীতে ইলিশ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পিরোজপুরে ধরা পড়া ইলিশের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। ফলে স্থানীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। একই সঙ্গে অবৈধ চায়না দুয়ারিসহ নিষিদ্ধ জালের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব জাল জব্দ ও ধ্বংস করছে এবং এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
যে আই