দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে মাদক মামলাসহ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে প্রসিকিউশন বিভাগের আয়োজনে ‘মাদক মামলার কার্যকর নিষ্পত্তি: প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার বলেন, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হলে আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে। এতে মাদক মামলাসহ অন্যান্য বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, মাদক মামলার কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে বগুড়ায় অন্তত পাঁচটি পৃথক মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ, প্রসিকিউশন ও মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা জজ বলেন, অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ জব্দ তালিকা প্রস্তুত, উদ্ধার করা মাদক যথাযথভাবে সিলগালা এবং নিরপেক্ষ সাক্ষী না পাওয়া গেলে তা জব্দ তালিকায় উল্লেখ করতে হবে। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ সদস্যকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অভিযানের আলোকচিত্র আদালতে উপস্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি।
মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সোর্সমানির নামে উদ্ধার করা মাদকের অংশ কাউকে দেওয়া আইনবিরোধী উল্লেখ করে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের অযথা হয়রানি না করে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে হবে। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সেমিনারে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল বাসেদ বলেন, আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক দাগি আসামি পার পেয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্যকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে বগুড়ায় মাদক মামলায় দণ্ডের হার সবচেয়ে কম। গত মে মাসে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং জুন মাসে ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
সেমিনারে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গোলাম মাহফুজ ও আফাজ উদ্দিন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিল্লুর রহমান, বগুড়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ রেজাউর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, আদালতের প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা মাদক মামলার দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তিতে বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রসিকিউশনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যে আই