দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ তুলে এক মধ্যবয়স্ক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছয়গাঁও এলাকার বাসিন্দা আবুল শেখের স্ত্রী ও ছয় সন্তানের জননী নারগিস বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা নারগিস বেগমকে জোর করে ধরে নিয়ে যান। এরপর তার দুই হাত চেপে ধরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, নির্যাতনের সময় নারগিস বেগম বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তার ওপর নির্যাতন বন্ধ করা হয়নি। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি এক নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন। এ সময় আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে ধারাবাহিকভাবে আঘাত করছেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলেও তাকে আবার দাঁড় করিয়ে মারধর করা হচ্ছে।
নারগিস বেগম দাবি করেন, তিনি কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নন। মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, তাদের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং তার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তার মায়ের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, তার মা স্ট্রোকের রোগী। মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কোনো অপরাধ করে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ভিডিওটি তারা দেখেছেন। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত ছাড়াই এভাবে নির্যাতনের সুযোগ নেই। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এমএস/