দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় তিন বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের আশায় কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ আল ইমনের (২২) বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন মারজিয়া (১৮) নামে এক তরুণী।
সোমবার (২১ জুলাই) অনশনের চতুর্থ দিনে ভুক্তভোগী তরুণী মারজিয়ার কথিত প্রেমিক ইমন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মারজিয়া বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মরিচবুনিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত ইমন নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবেকী গ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলামের ছেলে। অভিযোগে ইমনের বাবা তাইজুল ইসলাম, মা মুরশিদা বেগম ও জহিরুল ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন বছর আগে ইমনের ছোট বোনের মাধ্যমে মারজিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি উভয় পরিবারের সদস্যরাও জানতেন। সম্পর্ক চলাকালে ইমন একাধিকবার তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইমনের বাড়িতে নেওয়ার পর তার বাবা-মা মারজিয়াকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ইমনও তাকে বিয়ে করতে রাজি নন বলে জানিয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মারজিয়ার বলেন, ‘আমার অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ের আগেই ইমনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের হওয়ার পরও সম্পর্ক চলছিলো। ইমন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে আমি ওই ছেলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করি। এরপর গত ১৭ জুলাই ইমন আমাকে বিয়ের কথা বলে আমাকে বাড়ি চূড়ান্তভাবে নিয়ে আসে। প্রথমে এক বন্ধুর বাড়িতে রাখে এবং পরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে।’
ভুক্তভোগী মারজিয়া আরও জানান, ইমন ও তার পরিবার আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। আমি তাদের বাড়িতে থেকেছি, খেয়েছি। এখন তারা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি চাই ইমন আমাকে বিয়ে করুক।
এদিকে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে মারজিয়া নেছারাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নেছারাবাদ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ‘মেয়েটির আগে একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সে ইমনের বাড়িতে এসে অনশনে বসেছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে অভিযুক্ত ইমন ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরুদ্দেশ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
/অ