দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মাত্র ১০ টাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রশিদ দিতে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তহসিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীকে অফিসে আটকে রেখে মামলা ও সেনাবাহিনীর ভয় দেখানো এবং কোনো টাকা নেওয়া হয়নি—এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করারও অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত তহসিলদার টাকা ফেরত দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জমি বিক্রির জন্য নতুন অর্থবছরের খাজনার রশিদ তুলতে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান উপজেলার চর খোড়াতলা এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক। অভিযোগ, নানা টালবাহানার একপর্যায়ে তহসিলদার লিটন দেওয়ান বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। পরে সরকারি রশিদে করের পরিমাণ মাত্র ১০ টাকা দেখে তিনি অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চান।
আজিজুল হকের দাবি, টাকা ফেরত চাইতেই তাকে অফিসে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি কোনো টাকা নেওয়া হয়নি—এমন বক্তব্যও জোর করে ভিডিওতে ধারণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে শত শত মানুষ ভূমি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে তহসিলদার ২০ হাজার টাকা ফেরত দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি অফিসের সামনে ক্ষুব্ধ জনতার ভিড়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী আজিজুল হক অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে বিকাশে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল, পরে প্রতিবাদের মুখে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী আজিজুল হক বলেন, গত বছরও খাজনার রশিদ দিতে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এবার ২০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তিনি প্রতিবাদ করলে মামলা ও সেনাবাহিনীর ভয় দেখানো হয়।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন মোখলেস কাজী নামের আরেক ব্যক্তি। তিনি বলেন, একটি জমির নামজারি (মিউটেশন) করতে তার কাছ থেকেও ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল, পরে তিনি জানতে পারেন সরকারি ফি এর চেয়ে অনেক কম।
স্থানীয় বাসিন্দা কাওসার আহম্মেদ বলেন, সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে যদি এভাবে হয়রানির শিকার হন, তাহলে এমন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তহসিলদার লিটন দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ক্যামেরা দেখে কক্ষ ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে সরকারের সেবামূলক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/