দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বেত্রাঘাতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রের হাতের হাড়ে ফাটল ধরার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরের সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখে কলম গুঁজে দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার চরতিল্লী দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ঘটে। একই দিন শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আল-রাফি প্রতিদিনের মতো সেদিনও ক্লাসে যায়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে কান্নাকাটি করতে করতে সে বাড়ি ফিরে আসে। পরে তার বাবা ছেলের বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে ফুলে যাওয়া এবং রক্ত জমাট বাঁধা জখম দেখতে পান।
শিশুটির ভাষ্য, পড়া না পারায় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ বাঁশের বেত দিয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলে শিক্ষক তার মুখে একটি কলম গুঁজে দিয়ে বলেন, ২০ থেকে ২৫ মিনিটের আগে সেটি মুখ থেকে পড়ে গেলে আবারও মারধর করা হবে।
পরবর্তীতে শিশুটিকে মানিকগঞ্জের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে।
শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান বলেন, মা-হারা আমার ছেলে এখন শুধু শারীরিক কষ্টই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। সে মাদ্রাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির বিচার চাইলেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীটি পড়ার সময় অমনোযোগী ছিল। তাই দুটি বেত্রাঘাত করি। একটি হাতে লাগে। পরে জানতে পারি তার হাতের হাড়ে ফাটল ধরেছে। আমি আমার ভুল স্বীকার করেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘটনাটি অন্যায় হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলেও মামলার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় এখনো মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শিশুর প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক নির্যাতনের এ ঘটনা স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কে