দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং একজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন ধরে চলা সংঘর্ষ বন্ধে আশ্বাস দিয়েছে দুই পক্ষের গ্রামবাসী।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তী গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
বিকেলে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি জসিম উদ্দিন রিপন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি তাজুল ইসলাম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারসহ দলের নেতারা দুই গ্রামের মাতব্বরদের নিয়ে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগ নেন।
প্রথমে তারা সূর্যকান্দি গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পরে ধরন্তী গ্রামে গিয়ে সংঘর্ষে নিহত খাদিম মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। এরপর ধরন্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
এ সময় গ্রামবাসীরা খাদিম মিয়া হত্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূর্যকান্দি ও ধরন্তী গ্রামের মানুষ গত তিন দিন ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, আর সংঘর্ষে জড়াবেন না। বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা তাদের দাবি আদায় করতে চান।’
গত রোববার সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়া ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে বিলের পাটি বিক্রির এক লাখ টাকা দাবি করলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে খাদিম মিয়া নিহত হন। ওই ঘটনার জের ধরে সোমবার ও মঙ্গলবারও দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। টানা তিন দিনের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এমএস/