দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঠাকুরগাঁওয়ের ১১ বছর আগে রাণীশংকৈল উপজেলার ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণ করার মামলায় আব্দুল মমিন নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আলী মনসুর আসামির উপস্থিতিতে এ দণ্ড প্রদান করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামি আব্দুল মমিনকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। এসময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই ধর্ষণ মামলা থেকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিনের ভাই এরশাদকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন (৪২) ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী গ্রামের প্রয়াত জালাল বৈরাগী হে প্রমানিকের ছেলে।
মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ঘরে একা রেখে তার মা বাড়ির পাশের একটি দোকানে পান খেতে যান। এসময় ওই শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আব্দুল মমিন। ঘণ্টাখানেক পর বাড়িতে ফিরে শিশুটির মা ঘটনাটি দেখে চিৎকার শুরু করলে আসামি আব্দুল মমিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা মিলে ধর্ষণের শিকার ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরে ওই শিশুটির পরিবারের লোকজন আসামির বাড়িতে গিয়ে বিচারের দাবি জানালে আসামির ভাই এরশাদ বিচার না করে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দেন এবং আসামি আব্দুল মমিনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। পরে ২৩ অক্টোবর বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটির মা বাদী হয়ে আব্দুল মমিন ও তার ভাই এরশাদকে আসামি করে ঠাকুরগাঁওয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর মামলা স্বাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আলী মনসুর আসামি আব্দুল মমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি এরশাদকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
মামলার এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বাকিপ্রতিবন্ধী শিশুটির মা মামলার বাদী।
/অ