দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি চাকরির আশায় বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সফল হননি। শেষ পর্যন্ত হতাশ না হয়ে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন জীবিকার পথ হিসেবে। ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী কদবেলের বাগান। কয়েক বছরের পরিচর্যার পর সেই বাগান থেকেই মিলছে সাফল্যের স্বাদ। নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রথম কদবেল চাষ করে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন দুই ভাই।
তারা হলেন- উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারদিঘী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আফজাল হোসেনের ছেলে আনিছুর রহমান পাইলট ও আতীকুজ্জামান সবুজ।
আনিছুর রহমান পাইলট জানান, ২০১৩ সালে স্নাতক পাসের পর সরকারি চাকরির আশায় দীর্ঘদিন চেষ্টা করেন। কিন্তু বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় চাকরি আর পাওয়া হয়নি। তখন তিনি বিকল্প কিছু করার কথা ভাবতে শুরু করেন। এ সময় বাড়ির পাশে জঙ্গলের মধ্যে থাকা একটি পুরোনো কদবেল গাছ তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওই গাছের ফল বিক্রি করে প্রথম বছর প্রায় পাঁচ হাজার টাকা এবং পরের বছর পরিচর্যার মাধ্যমে প্রায় আট হাজার টাকা আয় করেন। তখনই বাণিজ্যিকভাবে কদবেল চাষের পরিকল্পনা নেন।
পরে ছোট ভাই আতীকুজ্জামান সবুজ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে ২০১৯ সালে প্রায় তিন বিঘা জমিতে কদবেলের বাগান গড়ে তোলেন।
সবুজ কৃষি বিষয়ে ডিপ্লোমা শেষ করে বর্তমানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি জানান, রাঙামাটি থেকে ‘বারি কদবেল-২’ জাতের ১৫০টি কলমের চারা সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি আরও ১০০টি দেশি জাতের বীজের চারা রোপণ করা হয়। কৃষি বিভাগের কারিগরি সহযোগিতায় নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানটি এখন ফলন দিতে শুরু করেছে।
আনিছুর রহমান পাইলট বলেন, গত বছর বাগানের ৭০টি গাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকার কদবেল বিক্রি করেছি। চলতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছি। বাগান গড়ে তুলতে এখন পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে সব গাছে পূর্ণাঙ্গ ফলন শুরু হলে বছরে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, কদবেল চাষে খরচ কম, পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ। কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে শিক্ষিত বেকার তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে কৃষিতে এগিয়ে আসা উচিত।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, রানীনগরে এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কদবেলের চাষ হচ্ছে এবং এর সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

রানীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রানীনগরে বাণিজ্যিকভাবে কদবেল চাষ এই প্রথম। এ অঞ্চলের মাটি, জলবায়ু ও আবহাওয়া কদবেল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে এই ফলের চাষ লাভজনক হতে পারে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে পুষ্টিকর ও দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়ছে। সেই সঙ্গে ভেষজ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফল হিসেবে কদবেলের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে কদবেল হতে পারে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্যও হতে পারে আত্মকর্মসংস্থানের অনুকরণীয় উদাহরণ।
কে