দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগকারী কয়েকজন অভিভাবকের দাবি, বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ টাকা ফেরত পেলেও তাঁদের সন্তানদের ভর্তি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত বদলগাছী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ২০১৮ সালের ২১ মে সরকারি হয়। এরপর থেকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি শ্রেণিতে দুটি শাখায় মোট ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন অবসরে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন আব্দুল খালেক। এরপর ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বছরের শুরুতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০২। পরে গোপনে আরও শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৬ জন।
নবম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মেসকাত জান্নাত মোহনার বাবা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন পাঁচ হাজার টাকা নেন। পরে তাঁর কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে বলেন। এরপর আরও দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে টাকা ফেরত দিয়ে জানানো হয়, ভর্তি করানো সম্ভব নয়। এখন পরীক্ষা সামনে, মেয়েকে কোথায় ভর্তি করাব বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছি।’
আরেক শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকার মা রওশন আরা বলেন, ‘ছয় মাস ধরে মেয়েকে ভর্তি করানোর আশ্বাস দিয়ে তাঁর কোচিং সেন্টারে পড়ানো হয়েছে। সেশন ফির কথা বলে এক হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে আরও চার হাজার টাকা চাওয়া হয়। এখন বলা হচ্ছে ভর্তি করানো যাবে না।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। কিন্তু আমি কাউকে ভর্তি করাইনি। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ আমাকে লিখিতভাবে জানায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আজকে বিকালে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কে