দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, রোববার বিকেল ৩টার দিকে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ৬টার দিকে তা বেড়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়।
পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু করেছে। এতে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাদামসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দা রবিউল হাসান বলেন, “এত দ্রুত পানি বাড়বে ভাবিনি। আর কয়েকদিন সময় পেলে বাদাম ঘরে তুলতে পারতাম। এখন সব পানির নিচে।”
একই ধরনের ক্ষতির কথা জানান সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকার কৃষক মশিয়ার রহমান। তিনি বলেন, “হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় বাদামের পুরো ক্ষেত ডুবে গেছে।”
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, উজানের ভারী ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডালিয়া পয়েন্টে তা বর্তমানে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি চলছে।
জে আই