দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে ঝুপড়ি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পুনর্দখলের মাধ্যমে আবারও গড়ে উঠেছে শত শত দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য স্থাপনা। মামলা-পাল্টা মামলা এবং আদালতের আদেশের প্রেক্ষাপটে কয়েক দফা উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের ঘটনা যেন ‘চোর-পুলিশ খেলা’র রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।
বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে। তবে পর্যটকদের চাপের পাশাপাশি বালিয়াড়ি দখল করে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে সৈকতের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।
এ প্রেক্ষাপটে উচ্চ আদালত সরকারের ১৯৯৯ সালের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইন অনুযায়ী সৈকতের জোয়ার-ভাটার সীমা থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা ঝুপড়ি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
সর্বশেষ গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
তবে উচ্ছেদের শিকার ব্যবসায়ীরা আদালতে রিট আবেদন করার পর আবারও বালিয়াড়ি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। সম্প্রতি সুগন্ধা, কলাতলী ও আশপাশের এলাকায় শত শত অস্থায়ী দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, “ইসিএ আইন অনুযায়ী পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় উচ্চ আদালতের স্থায়ী নির্দেশনা রয়েছে। এটি কোনোভাবেই লঙ্ঘনযোগ্য নয়। সৈকতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদে প্রশাসনিক উদ্যোগ আবারও নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, তারা জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত কার্ড সংগ্রহ করে এবং সরকারকে নির্ধারিত রাজস্ব প্রদান করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আদালতের আদেশের কথা বলে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযানের কারণে তারা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা সরকারের নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চান, তবে উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। আদালত এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। রিটের জবাব দেওয়ার পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৈকতের পরিবেশ ও প্রতিবেশ বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া বালিয়াড়িকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে না বলে তারা মনে করছেন।
জে আই