দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বাতকুচি গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা চেল্লাখালী নদীতে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ২০২২ সালে সড়কটির প্রায় ৪০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সীমান্তবর্তী বাতকুচি গ্রামটি পোড়াগাঁও ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত। আগে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের জন্য এই সড়কই ছিল প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়দের বিকল্প পথে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
গ্রামের পূর্ব পাশে অবস্থিত বারোমারী বাজারের সঙ্গেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ফলে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়েছেন কৃষিনির্ভর এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, উৎপাদিত ধান ও সবজি সহজে বাজারে নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
এদিকে নদীতে পানি বাড়লেই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। পলাশীকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, পলাশীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেন আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বেগম রৌশন আরা একাডেমির শিক্ষার্থীদের অনেক সময় কয়েক কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ২০২২ সালে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা দুর্ভোগে আছি। ফসল আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে স্বাভাবিক চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন করেও বাজারে নিতে পারছি না। দ্রুত সংস্কার না হলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘টিম’-এর সভাপতি রকুনুজ্জামান সেলিম বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় আশপাশের তিন থেকে চারটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী অন্তুবল বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ হচ্ছে। সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
জে আই