দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মাগুরার এক প্রবাসীর মরদেহ মৃত্যুর আট দিন পরও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এতে শেষবারের মতো স্বামী ও বাবার মুখ দেখার অপেক্ষায় দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের।
নিহত তৈওয়েব আলী (৫৩) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার মৃত হালিম মোল্যার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তৈওয়েব আলী। সেখানে তিনি রড মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। বিদেশে যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের এখনও প্রায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদের একটি হাসপাতালে লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন তিনি মারা যান। তবে মৃত্যুর আট দিন পার হলেও তার মরদেহ দেশে পৌঁছেনি।
স্বজনদের অভিযোগ, সৌদি আরবে অবস্থানরত পরিচিতজন ও আত্মীয়রা মরদেহ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এতে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।
তৈওয়েব আলীর স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে গিয়েছিলেন। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। তিন মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাব, জানি না। মৃত্যুর এতদিন পরও তার মরদেহ দেশে আসেনি। শুধু শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দেশে কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালালেও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদেশে গিয়েছিলেন তৈওয়েব আলী। কিন্তু জীবিত অবস্থায় আর পরিবারের কাছে ফেরা হয়নি তার।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, তৈওয়েব আলী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকলে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
জে আই