দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ কংস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের আলামত দেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
নিহত নিশামনি উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় নিশামনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা মরদেহটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের পর গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তারা। গলা ও বুকে কামড়ের মতো দাগ এবং শরীরের বিশেষ স্থান থেকে রক্তক্ষরণের আলামতও ছিল বলে দাবি করেন তারা। এতে শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ হয়।
খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত শিশুটির স্বজন ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ করে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় টাঙ্গাহাটি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জে আই