দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুল হামিদ (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় ভুয়া বিনিয়োগ অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা সংগ্রহ করতেন। পরে অ্যাপগুলো অকার্যকর করে দেন। গ্রাহকেরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি টেলিগ্রামে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পুলিশ। আব্দুল হামিদ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ১ জুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার মমতাজ বেগম (৩১) সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ তার অফিসে গিয়ে ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রচার করেন। তার কথায় আকৃষ্ট হয়ে মমতাজ বেগমের মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন গ্রাহক বিনিয়োগ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।
পরে তিনি ‘সিইএফ’ নামের আরেকটি অ্যাপে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন। ওই অ্যাপের জন্যও বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা নেন। এরপর গত ২ মে থেকে গ্রাহকেরা ‘ইকো ভোল্ট’ অ্যাপে প্রবেশ করতে না পেরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে শুরু করেন। এর মধ্যেই নতুন করে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গসংক্রান্ত ধারায় মামলা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, মামলার পর সদর থানার একাধিক দল তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি ওয়ালটন ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আব্দুল হামিদ বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেকার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ, বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর অ্যাপগুলো অকার্যকর করে দিয়ে নতুন অ্যাপের মাধ্যমে আবারও বিনিয়োগের প্রস্তাব দিতেন।
পুলিশ জানায়, গ্রাহকেরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি ‘Hamkail Moakael’ নামের একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেল) নাজরান রউফসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/অ