দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদকে ঘিরে বাড়ি ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। টাঙ্গাইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। তারা সবাই জীবিকার তাগিদে নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন এবং ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরছিলেন।
সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে মান্দার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ স্বামী, আবার কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আবদুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০); পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২)। এছাড়া মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫) এবং নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের সারিকুলও নিহত হয়েছেন।
স্বজনরা জানান, নিহতদের অধিকাংশ আগে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে এলাকার বিল-ঝিল ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় আয় কমে গেলে তারা নোয়াখালীতে গিয়ে ফেরির ব্যবসা শুরু করেন। গ্রামেগঞ্জে ঘুরে প্লাস্টিকের পণ্যের বিনিময়ে চুল সংগ্রহসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা করতেন তারা।
ঈদ উপলক্ষে স্বল্প খরচে বাড়ি ফেরার জন্য তারা জনপ্রতি ৩৫০ টাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাকে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা দেন। পথে টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
নিহত তারেক জিয়ার ফুফু খাদিজা বেগম বলেন, “তারেকের বিয়ের কথা পাকাপাকি হচ্ছিল। বাড়িঘর মেরামতের কাজও প্রায় শেষ করেছিল। ঈদে বাড়ি এসে বিয়ের কেনাকাটার পরিকল্পনা ছিল। খুব আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু এখন সে লাশ হয়ে ফিরবে, এটা কখনো ভাবিনি।”
স্থানীয় বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু এই গ্রামে আগে কখনও হয়নি। নিহতরা সবাই হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তারা দূর জেলায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। এখন পরিবারগুলো একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।”
তিনি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৯ জন মান্দা উপজেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুতে পুরো মান্দা উপজেলায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। ঈদের আনন্দের বদলে এখন গ্রামজুড়ে শুধু কান্না আর প্রিয়জনদের শেষবারের মতো বাড়ি ফেরার অপেক্ষা।
জে আই