দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাকডাকা ভোরের আগেই চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মাগুরা শহরের পিটিআই এলাকায় আসেন হকার নুরু মিয়া। শুধু নুরু মিয়াই নন, প্রতিদিন ভোরে খবরের কাগজ সংগ্রহ করতে ছুটে আসেন বারাশিয়া গ্রামের খোকন মিয়া, আবালপুর গ্রামের আবু মিয়া, শহরের নতুন বাজার এলাকার অসিত বিশ্বাস ও সাগরসহ আরও অনেকে।
রোববার (১৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, সকালের নাস্তা ছাড়াই চা-বিস্কুট খেয়ে দিনের কাজ শুরু করেন তারা। খবরের কাগজের বান্ডিল খুলে সাইকেলে বেঁধে ছুটে যান শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন অফিস-আদালত, বাজার ও বাসাবাড়িতে।
হকার নুরু মিয়া বলেন, ‘৩৪ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি কৃষিকাজও করি। ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি থেকে রওনা দিই। পথে যা পাই, তাই খেয়ে কাজ করতে হয়। বিশেষ করে আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বৃষ্টির কারণে কাগজ বিলি করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় কাগজ ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এখন কাগজ বিক্রি কমে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি।’
অসিত বিশ্বাস বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে খবরের কাগজ বিক্রি করছি। এখন এই পেশা দিয়ে সংসার চলে না। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কাগজ বিলি করতে হয়। মাস শেষে বিল তুলতে ২০ থেকে ২৫ দিন লেগে যায়। অনেক গ্রাহক টাকাও বাকি রাখেন। বর্তমান বাজারে আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
বারাশিয়া গ্রামের খোকন মিয়া জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে এসে কাগজ সংগ্রহ করতে হয়। পরে ইছাখাদা বাজার পর্যন্ত সাইকেলে করে কাগজ পৌঁছে দেন।
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে এখন অনেকেই মোবাইলে অনলাইনে খবর পড়ে। ফলে কাগজের চাহিদা কমে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে সাইকেল চালিয়ে কাজ করতে হয়।’
হকার সাগর বলেন, ‘অল্প কয়েক বছর হলো এই পেশায় এসেছি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় কাগজ বিলি করতে হয়। কিন্তু মাস শেষে ঠিকমতো বিল আদায় করা যায় না। বর্তমান সময়ে এই পেশায় টিকে থাকা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
এমএস/