দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের পশুর বাজারে বড় গরু নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। কোথাও বিশাল আকৃতির ষাঁড়, কোথাও লাখ টাকার দাম হাঁকা গরু-সবকিছু নিয়েই চলে মানুষের আগ্রহ। এবার রাজবাড়ী জেলার প্রান্তিক খামারিরা তাদের কুরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে এবারের কোরবানির বাজারে আলোড়ন তুলতে আসছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার প্রায় ৩৭ মণ ওজনের ‘রাজাবাবু’। যার দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা।
ধবধবে সাদা ও কালো রঙের গরুটির বয়স তিন বছর। বিশাল আকারের ‘রাজাবাবু’কে দেখতে প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে খামারে আসছে দর্শনার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফ্রিজিয়ান জাতের এ গরুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালন পালন করছেন মো. আলী শেখ ভালোবেসে নাম দিয়েছিলেন ‘রাজাবাবু’। গম, ছোলা, চালের গুড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে দেশিয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে গরুটি। প্রায় দশ বছর আগে শুরু করেছিলেন গরু পালন বর্তমানে তার খামারে গাভি সহ ৫ টি গরু আছে। কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের সহযোগীতায় এখন তৈরি করেছে সফল খামারে।
সরেজমিনে মো. আলীর খামারে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৩৭ মণ ওজনের গরুটির যত্ন নিচ্ছেন তার ছেলে সাহেব আলী শেখ।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর যাবত আমাদের গরুর খামার আছে এবং ৩ বছর এই গরুটা আমার বাবা সখ করে লালন-পালন করছে আর আমরা বাবাকে সহযোগিতা করি। এই গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়, আমরা কোন প্রকার ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করিনি। গরুর খাওয়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, গরুটির ওজন ৩৭ মণ, দাম ১০ লাখ টাকা।’

সাহেব আলী বলেন, ‘ইন্ডিয়া থেকে যদি গরু না আসে তাহলে লাভবান হবে খামারিরা। গো-খাদ্য দাম অনেক বৃদ্ধি তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই যেন গরু আমদানি করা না হয়।’
সরকারি তথ্য মতে, জেলায় ৮৮৭২ জন খামারি আছে এবং কুরবানির উপলক্ষে এসব খামারে ৭০ হাজারের অধিক পশু প্রস্তত আছে জেলায় মোট চাহিদা ৫৫ হাজার জেলার চাহিদা পুরণ করে বাকি পশু ঢাকাসহ অন্যান জেলায় পাঠাবেন বলে জানায় খামারিরা।
রাজবাড়ী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর ৭০ হাজারের অধিক পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যের উপর নির্ভর করে। আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সার্বক্ষণিক খামার মনিটরিং করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ হরমোন খাইয়ে পশু হৃষ্টপুষ্ট করে তার কিছু লক্ষণ বাইরে থেকে বোজা যায় যেমন গবাদি পশুর গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সুস্থ পশু হলে যে জায়গাটা গর্ত হবে সেটা সমান হয়ে যাবে, যখন পশুতে কোন কেমিক্যাল বা হরমোন ব্যবহার করা হয় তখন গর্ত জায়গাটা সমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা বলতে পারি এখানকার খামারিরা ওষুধ ব্যবহার করেছে না। আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছি এবং সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি।’