দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ গবাদিপশু। জেলার খামার ও গ্রামীণ পরিবারে পালিত এসব পশুর মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, এবার জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি পশু। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ষাঁড় রয়েছে।
জেলার কামারখন্দ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, কাজীপুর ও সদর উপজেলায় ছোট-বড় খামারগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। খামারিরা পশুকে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করছেন। অনেক খামারে পশুর জন্য রাখা হয়েছে আলাদা পরিচ্ছন্ন শেড ও চিকিৎসা সুবিধা।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছর জুড়েই তারা কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেউ ব্যাংক ঋণ নিয়ে, আবার কেউ পারিবারিক সঞ্চয় বিনিয়োগ করে খামার গড়ে তুলেছেন। তবে গো-খাদ্য, ওষুধ ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকে।
শাহজাদপুর উপজেলার ভাই ভাই ডেইরি ফার্মের পরিচালক শাহান উদ্দিন বলেন, ছয় মাস আগে ৩৪টি গরু কিনে মোটাতাজা শুরু করেছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গরুগুলোর পরিচর্যা করছি। খাদ্যের দাম বাড়লেও ভালো বাজারমূল্যের আশা করছি।
সদর উপজেলার ছোঁয়া মনি এ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী হাজি আব্দুস সাত্তার জানান, তার খামারে ৬৫টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। গরুর স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের খান এগ্রোর পরিচালক নির্ঝর খান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। প্রতি বস্তায় তিন থেকে চারশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। ফলে ষাঁড় মোটাতাজাকরণের ব্যয়ও বেড়েছে। সঠিক দামে পশু বিক্রি করতে পারলে লাভের আশা রয়েছে। তবে কোরবানির হাটে ভারতীয় গরু অবাধে ঢুকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য দাম নাও পেতে পারেন। বর্তমানে সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ডাবরি ভুসি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা ঘাসের আটি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে গরু পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

এদিকে জেলার ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটগুলোকে ঘিরে জমে উঠছে প্রস্তুতি। হাট ইজারাদাররা নিরাপত্তা, পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতের কথা জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জাল টাকা শনাক্তকরণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, সিরাজগঞ্জে এবার পর্যাপ্ত পশু মজুত রয়েছে। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি বছরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা হতে পারে। এমএম/কে