দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুরাদনগর উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। ঈদুল আজহা সামনে রেখে খামারে লালন-পালন করা হয়েছে ২১ হাজার ৬৭৬টি পশু। চাহিদা ১৮ হাজার। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার বেশি। খামারিরা ২১ হাজার ৬৭৬টি পশু বেশি পালন করেছেন। ছোট-বড়-মাঝারি মিলিয়ে প্রায় ১১শ গো-খামার রয়েছে। এছাড়া বাড়ি বাড়িতে কোরবানি গরু লালন পালন করছে গৃহস্থরা।
খামারিরা বলেন, আগে ছোট বাছুরে হতো। এখন বড় প্রায় গরু লাম্পি চর্মরোগ ও ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়েছিল। চিকিৎসা করে ওইসব গরুগুলো সুস্থতা নিশ্চিত করেছেন। রোগাক্রান্ত হয়ে অনেক গরু মারা গেছে। এতে দিশাহারা খামারি ও গৃহস্থরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাংসের দাম, চাহিদা ও লাভ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু পালনে আগ্রহ বাড়ছে খামারিদের। সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য খামারি ছাড়াও কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবীসহ নানান পেশার মানুষ করছেন পশু পালন।
প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলা ২২টি ইউনিয়নের খামারে ২১ হাজার ৬৭৬টি পশু। গরু ১৫ হাজার ৬৭১টি,মহিষ ১৫৪টি, ছাগল ৫ হাজার ১৫৮টি, ভেড়া ৬৭৩টি অন্যান্য ২৯টি পালন হয়েছে। এবার পশুর চাহিদা ১৮ হাজার ৫১৮টি হলেও গত বছর উৎপাদন ১৯ হাজার ৪৯টি, চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ১৫৫টি। প্রতি মুহুর্তে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে খামারিদের।
উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের গ্রামে ঘুরে জানা গেছে, অনেক খামারি ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশু লালন পালনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ঈদে এসব বিক্রি করে লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা। এছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকদের বাড়ি বাড়িতে গিয়ে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। এসব পশুর স্থানীয় হাট ছাড়াও বিক্রির জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে চলে যায়। তবে গো-খামারি ও কৃষকদের এই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা এ নিয়ে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।
পাহাড়পুর ইউনিয়নের শর্মাকান্দা গ্রামের মো. আলীর ৭টি ষাঁড় ও ৪৯টি গরু রয়েছে। যাত্রাপুর গ্রামের একটি দাখিল মাদরাসা শিক্ষক মো. গাফফার আহমেদ ভূঁইয়া খামারে ৪টি ষাঁড়। খামারি দুলাল মিয়ার ৪টি ষাঁড়। যাত্রাপুর গ্রামের ইউপির সদস্য বাবুল মুন্সী খামারে ৬টি ষাঁড়। রাজাচাপিতলা গ্রামের আ. মাঈন ও হাজী আবুল হাসেম খামারে ৪০টি গরু, পিপিড়িয়া কান্দা গ্রামের শাহিন ও হেলাল খামারে ৩০টি ষাঁড়।

বেনীখোলা গ্রামের জয়নাল আবেদীন ৪টি ষাঁড়, দীঘিরপাড় গ্রামের বশির মিয়া ৫টি ষাঁড়, দৌলতপুর গ্রামের জাকারিয়া ১২টি ষাঁড়, ঝুগিরখিল গ্রামের বিল্লাল ৬টি ষাঁড়, কোড়াখাল গ্রামের ইউপির সাবেক সদস্য নেছার উদ্দিন ৫টি, মোচাগড়া গ্রামের বাবু ভূইয়া ১০টি, ভবানী পুর গ্রামের ইউপির সদস্য আ. খায়ের ৬টি ষাঁড়, যাত্রাপুর গ্রামের পূর্ব উত্তর পাড়ায় রহিমা বেগমের ১০-১২ মন ওজনের একটি গরু লালনপালন করছে।
ওই সব গরু প্রতি পরিচর্যা খরচ পড়েছে প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা। ৫ থেকে সারে ১২ মণ ওজনের গরুগুলো ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দরে বিক্রির আশা করেছে। পশু মোটাতাজা করার জন্য ছাল, ছোলা, খেসারি, খুদ, গুঁড়া, খৈল, অ্যাংকর ডাল, খড় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
কোম্পানীগঞ্জ বাজারে গোখাদ্য ব্যাবসায়ি মো. খোকন বলেন, ‘দুইমাস আগে ৩৯ কেজির বস্তা খুদ ১ হাজার ৫৫০ টাকা, ৫৫ কেজির বস্তা ছাল ২ হাজার ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা, খেসারি প্রতিমণ ২ হাজার ৬০০ টাকা এবং গম প্রতিমণ ১ হাজার ৮০০ বিক্রি হয়েছে। তবে এসব গো-খাদ্যের বাজার উঠানামা করে প্রতিনিয়ত।’
মুরাদনগর উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জহিরুল হাসান বলেন, ‘গরু-ছাগলের লাম্পি চর্মরোগ ও ক্ষুরারোগ ভ্যক্সিন সরকারের সাপ্লাই না থাকার করণে ওইসব রোগাক্রান্ত হচ্ছে।’
মুরাদনগর ভেটেরিনারি সার্জন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মেজবাহুল জান্নাত মিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক উপায়ে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এলাকায় পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। মাংসের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু পালন বেড়েছে। রমজানের ঈদেও অনেক পশু বিক্রি হয়েছে। এবারও ভালো দাম পাবেন খামারিরা। বাড়ি বাড়িতে কৃষকরা গরু ছাগল বিক্রি জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মুরাদনগরের বড় হাটগুলোতে আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বড় ছোট গরু মহিষ বিক্রেতারা নিয়ে আসেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বি বলেন, ‘উপজেলায় পশু বিক্রির জন্য সাপ্তাহিক স্থায়ী ও অস্থায়ী ৪০টি হাট রয়েছে। এ বছর আরও বাড়তে পারে বাজার। অস্থায়ী হাট অনলাইনেও চলে বেচাকেনা। গো-খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হয়েছে। ঈদের বাজারও তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।’
কেএম