দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারী উদ্যোক্তা ফারিয়া আক্তার ইলা মাত্র একটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে ৬০টিরও বেশি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত “ফাহিয়ান অ্যাগ্রো ফার্ম” এখন এলাকায় সফল কৃষি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে ছোট পরিসরে গরু পালন শুরু করেন ফারিয়া আক্তার ইলা। ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্ন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তোলেন “ফাহিয়ান অ্যাগ্রো ফার্ম”। বর্তমানে খামারটিতে শাহিওয়াল, ফাইটার ও ওয়েস্টার্ন ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ঘাস ও দানাদার খাবার খাইয়ে পশুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে।
গরুর খামারের পাশাপাশি ছাগল পালন, কবুতর পালন এবং মাছ চাষও করছেন তিনি। এতে তার খামারটি একটি বহুমুখী কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
ফারিয়া আক্তার ইলা বলেন, শুরুতে অনেকেই আমাকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। একজন নারী হয়ে খামার পরিচালনা করায় নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তবে আমি থেমে যাইনি। নিজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে গেছি। এখন মানুষ প্রশংসা করছে, এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
তিনি বলেন, আমাদের খামারের পশুগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়। কোনো ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হয় না। ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
নিজের সফলতার পেছনে স্বামী মো. সুমন খানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন ফারিয়া। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তার স্বামী সাহস ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে ছিলেন। ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পেয়েছেন।
বর্তমানে ফাহিয়ান অ্যাগ্রো ফার্মে কয়েকজন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খামারে কাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় যারা ফারিয়াকে নিয়ে সমালোচনা করতেন, এখন তারাই তার সফলতায় প্রশংসা করছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তার এই উদ্যোগ এলাকায় অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
রাজাপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ফারিয়া আক্তার ইলা দেশীয় পদ্ধতিতে কোরবানির জন্য গরু লালন-পালন করে সফলতা অর্জন করেছেন। উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
জে আই