দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চোখ বাঁধা অবস্থায় এক অনন্য কৃতিত্ব গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের ১৮ বছর বয়সী সিফাত আকন। মাত্র ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরার এই ব্যতিক্রমী দক্ষতা তাকে এনে দিয়েছে বিশ্ব স্বীকৃতি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেকর্ডের জন্য আবেদন করার পর গত ২৮ এপ্রিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছর চারেক আগে পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেখেন সিফাত। কৌতূহল থেকে খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারেন বাংলাদেশেও কারও কারও এ রকম রেকর্ড রয়েছে। তাই সিফাতও পরিকল্পনা শুরু করেন। করোনাকাল হওয়ায় মাস্কসংক্রান্ত কিছু করার কথাই সবার আগে চিন্তা করেন। এরপর মাস্ক পরে রেকর্ড গড়বেন।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর লম্বা ছুটিতে আটঘাট বেঁধে শুরু হয় অনুশীলন। শুরুর দিকে ২৫-২৬ সেকেন্ড লেগে যেত। কারণ, চ্যালেঞ্জ মূলত দুটি। প্রথমত, চোখ বাঁধা থাকার কারণে মাস্ক হাতে তুলে নিতে সময় লেগে যায়। দ্বিতীয়ত, মাস্কটি ঠিকভাবে পরাও কঠিন। অনুশীলনের সময় মা, ছোট ভাই আর বন্ধু ইমনের উৎসাহ পেয়েছেন সিফাত। পরে ১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিসহ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করেন এই তরুণ। তিন মাস পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলে রেকর্ডকে স্বীকৃতি দেয় গিনেস।
সিফাত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়তে চান। সিফাতের বাবা আবদুল জলিল বনরক্ষীর চাকরি করেন। মা বেগম সুরমা গৃহিণী। সামনে সিফাতের আরও রেকর্ড গড়ার ইচ্ছা। এক মিনিটে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে জড়িয়ে ধরার রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন তিনি। করতে চান এক মিনিটে সর্বোচ্চ 'হ্যান্ডশেক'-এর রেকর্ডও।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সিফাত আকন বলেন, ‘রেকর্ডটি প্রথম করেছিল এক ভারতীয়। তিনি সম্ভবত ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে করেছিলেন। তখনই আমি রেকর্ড ভাঙ্গার কথা চিন্তা করি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও কোথাও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাইনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্পর্কে ধারণা পেতে ফেসবুক, ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি করেও কোনো পূর্ণাঙ্গ ‘গাইডলাইন’ মেলেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আগে রেকর্ড করেছেন, তাদের ই-মেইলে বার্তা পাঠিয়ে প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছি। তবে ই–মেইলেও যথাযথ সাড়া পায়নি। মূল সমস্যাটা হলো গাইডলাইন, যা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তবে প্রক্রিয়াটা অনেক লম্বা, আমার প্রায় ৯ মাস লেগেছে।’
সিফাতের বাবা জলিল আকন বলেন, ‘ছেলের সাফল্যে অনেক খুশি। মাত্র ১০ সেকেন্ডের ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে করে যে রেকর্ড গড়েছে তা গর্বের বিষয়। সে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে।’
ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, ‘সিফাত আমাদের এলাকারই সন্তান। ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। এটি আমাদের এলাকার গর্ব।’
কেএম