দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে স্ত্রীর আনা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী মো. দেলোয়ার হোসেন মামুন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল তার স্ত্রী মিনারা পারভীন একটি সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে অসত্য ও মনগড়া অভিযোগ তুলে ধরেন, যা তার সামাজিক ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
লিখিত বক্তব্যে স্বামী মামুন দাবি করেন, তার স্ত্রী মিনারা পারভীন তাকে মাদকাসক্ত বলে যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি বলেন, তিনি কখনোই মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং বর্তমানে তিনি মাদকমুক্ত। এ সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে রংপুরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি সার্টিফিকেট রয়েছে, যেখানে তার শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ব্যবসার কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকায় তার পক্ষে মাদক বা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে এসব বানোয়াট তথ্য দিতে প্রভাবিত করছেন তার করা মামলার দুই নম্বর আসামি এবং এনসিপির নেতা জাকির হোসেন। জাকির হোসেন তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে মানহানি করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
দেলোয়ার হোসেন মামুন আরও বলেন, তার স্ত্রী মিনারা পারভীন লিখিত বক্তব্যে তাকে নিয়মিত নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তিনি কখনোই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা বা আদালতে অভিযোগ করেননি—এ বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে কন্যা সন্তানকে হত্যার হুমকি ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি তার সন্তানদের অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং তাদের লেখাপড়াসহ বিভিন্ন খাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন, যার ব্যাংক প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিনারা পারভীন দীর্ঘদিন আগে ব্যবসার কাজে রাখা ৫০ লক্ষ টাকা ও ২০ ভরি সোনার গহনা নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে নিজেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক না থাকায় নির্যাতনের অভিযোগ অবান্তর।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, গত ২৬ মার্চ রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফেরার পথে তার ওপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়। এতে মিনারা পারভীনের ভাই জাহাঙ্গীর হাসান মিলন ওরফে ‘বোতল মিলন’ এবং সাংবাদিক পরিচয়ধারী ও এনসিপির নেতা জাকির হোসেনসহ ১০ থেকে ১৫ জন জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ফুলবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
কেএম