দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়েশা আক্তার আশুরা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের মেয়ে আয়েশা গত ১৭ এপ্রিল সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে শিশুটির বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো. আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল কাজ শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে গত ৩০ এপ্রিল মাচাবান্ধা এলাকার বাসিন্দা কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে খেলতে গেলে কহিনুর বেগমের ছেলের সঙ্গে খেলাধুলার সময় একটি কলম দিয়ে তার চোখে আঘাত লাগে। এতে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে বিষয়টি গোপন করতে কহিনুর বেগম তার মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।
পরে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রেখে রাতের অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃতদের কুড়িগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে কহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, ঘটনার পরপরই দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জে আই